Published : 03 Apr 2026, 01:07 PM
বিশ্বকাপের টিকিট কাটার ব্যর্থতায় ইতালির ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)-এ পদত্যাগের ঢেউ উঠেছে। গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনার পর এবার কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফনও সরে দাঁড়ালেন। আবেগঘন এক বার্তায় বুফন জানান, ব্যর্থতার দায়ভার নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ সালেও ইতালি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এবার প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে তাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। এই অপ্রত্যাশিত ধাক্কার পর ইতালির ফুটবল অঙ্গনে যেন ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। বুফন বলেন, ‘বসনিয়া ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম। এটা হৃদয় থেকে আসা একটি স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত ছিল, যেমনটা আমার চোখের জল ছিল।
এই কষ্ট আমি আপনাদের সবার সাথে ভাগ করে নিচ্ছি।’ ২০০৬ বিশ্বকাপ জয়ী দলের গোলরক্ষক বুফন আরও বলেন, ‘আমাকে কিছুদিন সময় নিতে বলা হয়েছিল, যাতে সবাই বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। প্রেসিডেন্ট গ্রাভিনা সরে দাঁড়ানোর পর আমি নিজেকেও স্বাধীন মনে করছি। জেনারো গাত্তুসো এবং তার কোচিং স্টাফের সাথে আমরা অল্প সময়ে দলের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া তৈরি করেছিলাম। কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইতালিকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনা, যেখানে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’ বুফন মনে করেন, তার উত্তরসূরি যেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারেন। জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা তার জন্য সম্মানের, এবং এটি সবসময় তার কাছে আবেগের জায়গা ছিল। তিনি তার দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন, এবং বয়সভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের একটি সেতুবন্ধ তৈরি করতে চেয়েছেন।
এছাড়াও, বিভিন্ন কোচের সাথে আলোচনা করে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, যা অনুর্ধ্ব-২১ দল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন বুফন, যিনি দেশের হয়ে রেকর্ড ১৭৬টি ম্যাচ খেলেছেন। গাত্তুসোর কোচিংয়ে ইতালিকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্যর্থ হওয়ায় ইউরোপের গণমাধ্যম জানিয়েছে, গাত্তুসোর কোচিংয়ে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ইতালির সংবাদমাধ্যম সম্ভাব্য কোচ হিসেবে রবার্তো মানচিনি, আন্তোনিও কন্তে, মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি ও পেপ গার্দিওলার নাম তুলেছে। ‘লা গাজেত্তা dello স্পোর্ট’ জানিয়েছে, এই দৌড়ে মানচিনি এগিয়ে আছেন। তার হাত ধরেই ইতালি ২০২০ সালের ইউরো জিতেছিল।।